ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় যে বার্তা দিয়েছেন, সেটিকে বিএনপি অভূতপূর্ব বলে আখ্যা দিয়েছে। এই বার্তাকে শুধু কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন বাস্তবতারও ইঙ্গিত বলে মনে করছে দলটি। মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপি বলেছে, এ ধরনের উদ্যোগ “যুগান্তকারী”।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বার্তাটিকে “খুবই ইতিবাচক” মন্তব্য করে জানান, ভারত সরকারের এ অবস্থানকে বিএনপি আন্তরিকভাবে মূল্যায়ন করছে। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক স্বার্থ, মানবিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের দৃষ্টিকোণ থেকে মোদির এই বার্তা সঠিক সময়ে এসেছে।
এর আগে এক্স-এ পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদি লিখেছিলেন,
“বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে জেনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, যিনি বহু বছর ধরে বাংলাদেশের জনজীবনে অবদান রেখেছেন। তার দ্রুত আরোগ্যের লক্ষ্যে আন্তরিক প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা জানাই, এবং ভারত সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।”
মোদির এই বক্তব্য দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
প্রতিক্রিয়ায় বিএনপিও এক্স-এ বার্তা দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানায়। দলটি লিখেছে,
“বিএনপি চেয়ারপারসনের আরোগ্য কামনায় চিন্তাশীল বার্তা ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য বিএনপি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। শুভেচ্ছা এবং সহযোগিতার ইচ্ছাকে বিএনপি গভীরভাবে মূল্যায়ন করেছে।”
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে উলফাত বলেন, তিনি একজন “মহান নারী”—স্বামীর হত্যার পর সাধারণ গৃহিণী থেকে উঠে এসে রাজনীতির শীর্ষে যাওয়া শুধু দায়িত্ববোধই নয়, জনসমর্থনেরও প্রমাণ। দেশের ভেতরে যেমন শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পেয়েছেন ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।
দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে উলফাত বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চলের উন্নয়নেও বাংলাদেশের ভূ-অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার দাবি, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নেও ভারতের ইতিবাচক মনোভাব প্রয়োজন।
৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি সমস্যায় তার শারীরিক অবস্থা নাজুক। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট তীব্র হওয়ায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে উলফাত ১৬ ডিসেম্বরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই দিনটি জাতির জন্য এক মহান দিন—কারণ পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যে নৃশংসতার আগুন জ্বালিয়েছিল, তার শেষ অধ্যায় লেখা হয়েছিল বিজয়ের মধ্য দিয়ে।
সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস