বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে যে আবেগ, উদ্বেগ ও আকাঙ্ক্ষা জমে উঠেছে, তার এক মানবিক প্রকাশ দেখা গেল দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের বক্তব্যে।
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “মাবুদ, আমার হায়াত থেকে ম্যাডাম জিয়াকে ৫ বছর দিয়ে দাও।” এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অনুভূতিপূর্ণ প্রার্থনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিএনপি বারবার সরকারের কাছে তাঁকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানালেও এখনো সে সুযোগ মেলেনি। এ পরিস্থিতিতে নেত্রীর সুস্থতা নিয়ে দলের ভেতর উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রার্থনা শুধু রাজনৈতিক আনুগত্য নয়; বরং একজন সহযোদ্ধার গভীর মানবিক টান ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁর বক্তব্যে একজন নেত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা, মমতা এবং কৃতজ্ঞতার আবেগ ফুটে উঠেছে। অনেক নেতাকর্মী সামাজিক মাধ্যমে বাবরের সেই প্রার্থনার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার কামনা করেছেন।
বিএনপি নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের চেয়ারম্যান নন—তিনি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর জীবন ও ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। তাই তাঁর সুস্থতা শুধুমাত্র দলীয় প্রয়োজন নয়, বরং গণতান্ত্রিক চেতনার ধারাবাহিকতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজনের দিকে ইঙ্গিত করছে—এমন মন্তব্য দলীয় নেতাদের। বিএনপি মনে করছে, তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাবরের আবেগঘন এ প্রার্থনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।