দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় জাতীয় দাবি ও জন-আকাঙ্ক্ষা—এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুর্নীতি এখন জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে এটি দেশের সম্ভাবনা, রাষ্ট্রীয় সেবা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার লঙ্ঘন, প্রশাসনের অকার্যকারিতা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুণ্ঠন ও বৈষম্যের মূল কারণ হলো দুর্নীতি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জামায়াতে ইসলামী পরিচ্ছন্ন, নৈতিক ও স্বচ্ছ রাজনীতির পক্ষে অবস্থান করে আসছে। অতীতে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দলটি সোচ্চার ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানান তিনি।
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন শৃঙ্খলা, ন্যায়, সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা করছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে ক্ষমতা নয়, যোগ্যতা কথা বলবে; স্বজনপ্রীতি নয়, সৎ মেধার প্রতিফলন ঘটবে এবং সর্বস্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা পাবে।”
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনপ্রত্যাশার এই নতুন অধ্যায়ে প্রশাসনকে হতে হবে ন্যায়নিষ্ঠ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব। দক্ষতা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি আধুনিক এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে, যা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, তরুণ প্রজন্ম ও প্রশাসনের সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, জুলাই বিপ্লবের চেতনায় সবাই মিলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াই এবং স্বচ্ছ, ন্যায়নিষ্ঠ, জনবান্ধব নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”