আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’র সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি অংশ বর্তমানে “নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদের” আচরণ করছে, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য উদ্বেগজনক।
সোমবার দুপুরে বরিশাল রিপোর্টস ইউনিটি ও বরিশাল প্রেসক্লাবে তাঁর ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত দুইটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “হাসিনার ফ্যাসিবাদের সময় আমরা চুপ ছিলাম না। আমরা রাস্তায় ছিলাম। এখন কেউ ভাববেন না হুমকি-ধামকিতে এবি পার্টি লেজ গুটিয়ে পালাবে। আমরা সেই নামের রাজনীতি করি না।” তিনি দাবি করেন, বিএনপির কিছু ব্যক্তি নিজেদের আচরণে মূলধারার গণতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে ক্ষমতাধরদের মতোই হুমকিমূলক ও অগণতান্ত্রিক প্রবণতা দেখাচ্ছেন।
গত বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ফুয়াদ বলেন, আগস্টের আগে বাংলাদেশ ছিল “শুধু আওয়ামীময়”—দেশ ছিল শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। “আগস্টের পরে তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে”—বলেন তিনি।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা শহীদ জিয়ার আদর্শের কথা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু আপনারা এখন আওয়ামী লীগের মতো রাজনীতি করছেন। গণতন্ত্রের রাজনীতি করেন, সৎভাবে দেশকে ভালোবাসেন।”
বাবুগঞ্জে একটি ব্রিজ উদ্বোধনকালে তাঁর ও এবি পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের সামনেই আমাদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, শুধু দুই-তিনবার বাঁশি বাজিয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বাবুগঞ্জ–মুলাদীর বিভিন্ন গ্রামে বিএনপির কিছু ব্যক্তি নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে, রামদা তৈরি করা হচ্ছে, এমনকি দুর্গম এলাকায় এখনো বোমা তৈরির কার্যক্রম চলমান। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, “এই ডিসি-এসপি দিয়ে ভালো নির্বাচন হবে বলে মনে হয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সদস্যরা রোববারের ঘটনার সময় নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাবুগঞ্জ থানার ওসিকে সাসপেন্ড করতে হবে।”
রাজনৈতিক উত্তাপের এই প্রেক্ষাপটে তাঁর বক্তব্য ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।