আওয়ামী লীগ যেসব কৌশল ব্যবহার করেও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করতে পারেনি, বিএনপি এখন সেই ব্যর্থ কৌশলকেই নিজের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. গালিব বলেন, বাংলাদেশ আজ পোস্ট-হাসিনা রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। “রাজনীতিতে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের বাইরে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাসে যেসব জাতি সংকটময় মুহূর্তে বৃহৎ রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি দেখাতে পেরেছে, তারা সময়ের চেয়ে এগিয়ে গেছে। ইউরোপের একীভূত অবস্থান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের পরও ফেডারেল কাঠামো টিকে থাকার উদাহরণ তিনি তুলে ধরেন।
তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা—যেখানে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলই “অস্বাস্থ্যকর সংঘাতের” দিকে এগোচ্ছে।
বিএনপি নেতাদের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করা, জামায়াতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়া—এসবকে তিনি ভবিষ্যতের জন্য “বিপজ্জনক সংকেত” বলে আখ্যা দেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে স্ট্র্যাটেজি দিয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে শেষ করতে পারেনি, বিএনপি এখন সেই ব্যর্থ স্ট্র্যাটেজিকেই নিজের বড় অস্ত্র ভাবছে।” তাঁর মতে, দলীয় আবেগ, ভুল রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং নেতৃত্ব পর্যায়ের উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য—সবই দুই দলের মধ্যে অযথা শত্রুতা বাড়াচ্ছে।
দেশের অর্থনীতি ও জনশক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা পাচ্ছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে আগামী দশকের মধ্যেই দেশ উন্নত জাতিতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং দেশের দুই প্রধান সিভিল রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্বশীল আচরণ।
পোস্টের শেষে ড. গালিব বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান—“এখন শুধুই কীভাবে নির্বাচন জিতবেন, সেটি নয়; দেশ আগামী দশ বছর পরে কোথায় দাঁড়াবে, সেই বড় ছবিটাও মাথায় রাখতে হবে।”