বরিশালের বাবুগঞ্জে মীরগঞ্জ সেতুর ভিস্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করতে গিয়ে একদল স্থানীয় জনতার রোষের মুখে পড়েন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তাকে ঘিরে অশালীন স্লোগান, ধাওয়া ও হেনস্তার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটির একাংশে দেখা যায়—ফুয়াদ সামনে এগোচ্ছেন, আর পেছনে স্লোগান ওঠছে ‘ফুয়াদের দুই গালে জুতা মারো’, ‘ফুয়াদের চামড়া তুলে নেব’। পরে সহযোদ্ধাদের সহায়তায় দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, “আজ বরিশালে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ভাইকে ঘিরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ভীষণ উদ্বেগের।”
তিনি আরও বলেন, মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকতেই পারে, রাজনৈতিক অবস্থানেও মতপার্থক্য স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো প্রার্থী নিজের এলাকায় গেলে তাকে ‘চামড়া তুলে নেব’ বা ‘জুতা মারো’ ধরনের অশালীন স্লোগানে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হতে পারে না। রাজনীতিতে সুস্থ বিতর্ক ও যুক্তি থাকা উচিত, গায়ের জোর বা সহিংস আচরণ নয়—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তাসনিম জারা বলেন, মানুষের পছন্দ-অপছন্দ থাকবে, ভোটে সমর্থন দেবেন কি দেবেন না সেটি জনগণের অধিকার। কিন্তু শারীরিক আক্রমণ, হুমকি কিংবা অপমানের ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “রাজনীতি হোক যুক্তির, পরস্পরের সম্মান রক্ষার। আমাদের রাজনীতি গায়ের জোরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।”
ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি রাজনৈতিক মতবিরোধই এভাবে সহিংসতার দিকে যায়, তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ভোট-রাজনীতি হোক যুক্তিভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ এবং সম্মানজনক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এনসিপির এই নেত্রী।