নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে নতুন একটি জোট ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে—ডিআরইউ—আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির লক্ষ্যে তিনটি দল মিলে এই জোট গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সংস্কারমুখী নেতৃত্বের ভিত্তিতে নতুন এই জোট আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন জোটে রয়েছে—
১. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
২. বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
৩. এবি পার্টি
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া। সেখান থেকেই গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের যাত্রা। জনগণের অধিকার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই হবে জোটের মূল লক্ষ্য।”
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সমস্যা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে বৃহত্তর সংস্কার এজেন্ডা ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “যৌথভাবে আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের একটি কার্যকর মডেল দাঁড় করাতে চাই।”
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম জানান, জোট জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে একটি সুসংহত রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই জোট রাজনৈতিক ময়দানে একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে সমীকরণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।