দেশ পরিচালনায় সুস্পষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিনে জাতীয় পুনর্গঠনের সব উদ্যোগ সফল করতে হলে যেকোনো মূল্যে দু’টি বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে—দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা। রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণ যে স্বৈরাচারী শাসনকে বিদায় দিয়েছে, সেই শাসনব্যবস্থা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, কৃষি—সব খাতকে ধ্বংস করেছে। এর ভুক্তভোগী দেশের সাধারণ মানুষ।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণই রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস, তাই মানুষের দেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত বিএনপি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করবে।
বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ এখন কঠিন সময় পার করছে। নানা মহল থেকে ষড়যন্ত্র চলছে এবং আগামীতেও আরও কঠিন পরিস্থিতি আসতে পারে। “এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা,” মন্তব্য করেন তিনি।
নিজেদের ঘোষিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে দুর্নীতি দমনকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “যত পরিকল্পনা নিয়েছি, সেগুলো সফল করতে হলে প্রথমে দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার লাগাম টেনে ধরতে হবে। তা না পারলে প্রতিটি উদ্যোগই বাধাগ্রস্ত হবে। এই কাজ শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই করতে সক্ষম।”
স্বৈরাচারী সরকারের সময় দেশের প্রতিটি খাত ভেঙে পড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা জরুরি। জনগণের সিদ্ধান্তই হবে দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে বিএনপি একটি জাতীয় নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে এবং সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ভিশন-ভিত্তিক রাজনৈতিক প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।