সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফল ঘোষণা করলেই হয় না; এমন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য যেখানে পরাজিত দলও অংশ নিতে আগ্রহী থাকে এবং পুরো প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখতে পারে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, বিএনপির প্রাণশক্তি খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকার পরও বিএনপি নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন—এটি প্রমাণ করে যে নির্বাচন বিলম্বিত করতে দলটি কোনোভাবেই আগ্রহী নয়। বরং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিএনপি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী ‘জেনুইন নির্বাচন’ নিশ্চিত করতে মতপ্রকাশ, সমাবেশ, সংগঠন গঠন ও চলাচলের স্বাধীনতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হয়। এসব শর্ত পূরণ না হলে গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয়। বাস্তব জীবনের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, মানুষ নানা দ্বন্দ্ব ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই অতিরিক্ত ‘চ্যালেঞ্জ’ শব্দ উচ্চারণ মানুষের মধ্যে অযথা ভীতির সঞ্চার করতে পারে।
বক্তব্যে তিনি বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিনের উদাহরণ টেনে বলেন, যিনি বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেও কোনো আর্থিক পুরস্কার পাননি, অথচ মিটার আবিষ্কারকারী ব্যক্তি তা থেকে অর্থ উপার্জন করেছেন। এই বৈপরীত্যই বাস্তবতার প্রতিফলন।
জুলাই চার্টারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আলাল বলেন, ব্যালটে থাকা চার্টারের বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলো এর নীতিমালা মানতে বাধ্য থাকবে—তবে এ বিষয়ে যথাযথ আলোচনা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় না আসাকে বড় ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার করতে হলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।