বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার–১ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দীর্ঘ ১৬–১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে জনগণের স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ। তাই প্রত্যেক ভোটারকে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে হবে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে কোনাখালী ইউনিয়নে আরেক পথসভায় সালাহউদ্দিন বলেন, শিক্ষিত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বিএনপির অন্যতম অঙ্গীকার। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা চালু করা হবে, পাশাপাশি এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এক থেকে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, “বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয়, আবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নও করে।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের গণতন্ত্রের জন্য ‘একটি ভাইরাস’ হিসেবে কাজ করেছে। তিনি দাবি করেন, সেই ভাইরাস বিদায় নেওয়ায় বাংলাদেশ এখন সুস্থ রাজনীতির সুযোগ পাচ্ছে। বিএনপি স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র রক্ষার দল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, জনগণের ত্যাগ, শহীদদের রক্ত এবং গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই বিএনপি আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী দিনে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
কৃষক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিএনপির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, কৃষকের হাতে পৌঁছানো হবে কৃষি কার্ড, ন্যায্য দামে বীজ–সার এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ। সকল নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে যেন কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়। দরিদ্র পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে পরিবারভিত্তিক কার্ডের মাধ্যমে।
তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশের নতুন অধ্যায়ে সবাই যেন উৎসবের পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।