বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলে গভীর উদ্বেগ থাকলেও ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন,
নির্বাচন তো নির্বাচনের জায়গায়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নাই। সবচেয়ে বেশি নির্বাচন যিনি চাইবেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য, তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’
আমীর খসরু বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে না। বরং তিনি সবসময়ই ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন। তার ভাষায়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার—এই দাবি সবচেয়ে বেশি জোরালোভাবেই এসেছে বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে।
বিদেশে চিকিৎসার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান,
“বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পেলেই তাকে লন্ডনে নেওয়া হবে।”
তিনি এও স্পষ্ট করেন, এই চিকিৎসা ও নির্বাচন—দুটো সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো যুক্তি বিএনপি দেখছে না।
সভায় আমীর খসরু আরও বলেন,
‘উনি যে অবস্থায় থাকুক, উনি চাইবেন বাংলাদেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠন করুক, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ফিরে আসুক, বাংলাদেশের মানুষ আবার তাদের মালিকানা ফিরে পাক। যদি সবচেয়ে বেশি কেউ চেয়ে থাকে (নির্বাচন) সেটা হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার প্রশ্নটা আসছে কোথা থেকে?’
খসরুর বক্তব্যে এদিন স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অটল, এবং খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন বিলম্বের তর্কে তারা সাড়া দিতে প্রস্তুত নয়।