বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর ফলে মোট ঘোষিত দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭২। এখনও ফাঁকা রয়েছে ২৮টি আসন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন তালিকা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলের দুই দফার প্রার্থী ঘোষণায় সবচেয়ে আলোচনায় থাকা নামগুলোর একটি হলো বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। প্রথম তালিকায় জায়গা না পেলেও রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে ধারণা করেছিলেন, দ্বিতীয় তালিকায় তার নাম আসতে পারে। তবে নতুন তালিকাতেও রুমিন ফারহানার নাম নেই। এতে তাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, রুমিন ফারহানা নিজ জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। তবে দল এখনও এ আসনসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনেও কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—এই দুটি আসন কি রুমিন ফারহানা অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক শিকড়ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তার জন্মস্থান বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম। বর্তমানে তিনি সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় বসবাস করছেন। সংসদীয় এলাকার ইতিহাসও রুমিনকে নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বাবা অলি আহাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নৌকার প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এদিকে প্রথম দফায় মাদারীপুর-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়া কামাল জামান মোল্লার প্রার্থিতা স্থগিত করে দ্বিতীয় তালিকায় ওই আসনে নাদিরা আক্তারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় নেতারা বলছেন, শেষ মুহূর্তে আরও কিছু সমন্বয় হতে পারে। ফলে বাকি ২৮টি আসনের মনোনয়ন পেতে এখনও আশা হারাতে চাইছেন না সম্ভাব্য প্রার্থীরা।