বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে ঢাকায় দায়িত্ব পালনরত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সকালেই তিনি হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। কূটনৈতিক মহলে তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সারাহ কুক চিকিৎসকদের কাছ থেকে খালেদা জিয়ার কিডনি, লিভার ও হৃদ্যন্ত্র–সংক্রান্ত জটিলতা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নেন। তিনি চিকিৎসা টিমের কাছ থেকে চলমান চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও জানতে চান। কূটনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে এ ধরনের মানবিক খোঁজখবর আন্তর্জাতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নতুন গতি এসেছে চীনের বিশেষজ্ঞ দলের যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ডা. কাই জিয়ানফাংয়ের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের চীনা মেডিকেল টিম এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে প্রবেশ করে। তারা দেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে যৌথভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শরীরের বিভিন্ন জটিলতা, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং চলমান চিকিৎসা পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করেন।
চীনা চিকিৎসক দলটি বিশেষভাবে কিডনি, লিভার ও সংক্রমণ–সংক্রান্ত জটিলতা ব্যবস্থাপনায় পরামর্শ দিচ্ছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডও তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহও বেড়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের এই সফরে। বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রমাণ করে—খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি এখন মানবিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বের স্তরে উন্নীত হয়েছে।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।