আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক চমক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ ১০ মাস আগে ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তন করে এবার এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হোসাইন। এতে এলাকায় নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা একে জামায়াতের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে স্থানীয় নেতাদের এক বিশেষ বৈঠকে কৃষ্ণ নন্দীর প্রার্থীতা চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে ১ ডিসেম্বর খুলনায় দলীয় সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে এই প্রার্থী পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর কৃষ্ণ নন্দী বলেন,
“আমাকে জামায়াতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গভাবে প্রচারণা শুরু করব।” তিনি আরও জানান, দলীয় সিদ্ধান্তে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।
আগে ঘোষিত প্রার্থী মাওলানা আবু ইউসুফও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “জামায়াতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুলনা–১ আসনের প্রার্থী এখন কৃষ্ণ নন্দী। আমি তার পক্ষেই প্রচারণা শুরু করেছি। আমাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক করা হয়েছে, তাই যথাসম্ভব দায়িত্ব পালন করব, ইনশাআল্লাহ।”
প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি খুলনার ছয়টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল জামায়াত। দীর্ঘ ১০ মাস পর শুধু খুলনা–১ আসনেই পরিবর্তন এনে এবার একজন হিন্দু নেতাকে বেছে নিল দলটি—যা দলের ইতিহাসে বিরল সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক মহলে অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় জনসংখ্যা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং কৌশলগত বিবেচনায় জামায়াত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এমন প্রার্থী ঘোষণা নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা আগামী দিনগুলোতে ভোটার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।