ক্ষমতায় গেলে জনগণকে অন্ধকারে রেখে অবাস্তব কিংবা অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা। দুর্নীতি কমাতে পারলে ধনী-গরিব সবার জীবনমান উন্নত হবে বলে মত দেন তিনি। অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে জামায়াতের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই নেতা।
তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসা খাতে অস্বচ্ছতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে। তাঁর ভাষায়, “কমিশনের আশায় কিছু চিকিৎসক রোগীকে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দেন, অতিরিক্ত টেস্ট লিখে দেন। পরকালের ভয় ও নৈতিকতা থাকলে কোনো চিকিৎসকই এমন অনিয়ম করতে পারবে না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি রাষ্ট্র উন্নত হতে হলে আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। নেতৃত্বে সদিচ্ছা, সততা এবং জবাবদিহি থাকলে দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন অনিবার্য। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, সৎ নেতৃত্ব থাকলে দেশের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন নয়—সবার উচিত দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা। “ক্ষমতায় গেলে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যা জনগণকে অন্ধকারে রাখে বা দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়,” যোগ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী নেতারা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি। বক্তারা স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ওষুধের গুণগত মান, ব্যবসায়ীক নীতিশৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন।