আওয়ামী শাসনামলে নির্যাতন, কারাবরণ ও নির্বাসনের দীর্ঘ পরিক্রমা পেরিয়ে বর্তমানে জীবন-মরণ সংকটে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। এখন শুধু প্রয়োজন যুক্তরাজ্য থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের ‘গ্রিন সিগন্যাল’।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিস্তৃত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
এদিকে সোমবার রাতে তাকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিআইপি)’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর হাসপাতাল এলাকা ও আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে ডিএমপি।
আজ দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে জরুরি ব্রিফিংয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, “আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো—আমেরিকা, চীন, পাকিস্তান, ভারত—সবাই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম ঢাকায় আসছেন। তারা শারীরিক অবস্থা যাচাই করে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সমন্বিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লন্ডনই সম্ভাব্য গন্তব্য।” একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে ছেলের কাছে লন্ডনে নিতে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, মেডিকেল অ্যারেঞ্জমেন্ট ও ট্রাভেল সেটআপ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল যদি আজ সবুজ সংকেত দেয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া হবে।
এদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া শুধু দলের নেত্রী নন—তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। তার সুস্থতা এখন পুরো জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।