ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল হলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। তবে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বিবিসি বাংলাকে জানানো হয়েছে—তিনি চিকিৎসায় “রেসপন্স” করছেন, যা গত কয়েক দিনের তুলনায় তুলনামূলক আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি।
চিকিৎসক দলের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, ডাকলে তিনি মাঝে মাঝে সাড়া দিচ্ছেন। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় এই সামান্য সাড়াকেও চিকিৎসকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গত তিন দিনের জটিল পরিস্থিতি থেকে একটি সামান্য এগিয়ে যাওয়া দেখা যাচ্ছে, তবে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
গত রোববার রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার নতুন সংক্রমণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয় বেগম জিয়াকে। এরপর থেকেই ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর জটিলতার কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন—ফুসফুসের সংক্রমণ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও দীর্ঘদিন ধরে চলমান কিডনি–লিভারের জটিলতা মিলিয়ে তার চিকিৎসা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে বুধবার থেকে পরিস্থিতির অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানান যে বেগম জিয়ার অবস্থা “অত্যন্ত সংকটময়”—যা শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
দলীয় প্রধানের অসুস্থতার কারণে বিজয় দিবস উপলক্ষে পহেলা ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘মশাল রোড শো’সহ সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মহাসমাবেশে শেষ হওয়ার কথা ছিল এই রোড শো।
দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।