ইমাম–মুয়াজ্জিনদের আর্থিক স্থিতি ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পিরোজপুর–১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ইমাম–মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সম্মানী ভাতা চালু করা হবে।
রবিবার নাজিরপুর আলিয়া মাদ্রাসা চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি নাজিরপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইমাম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মাসুদ সাঈদী বলেন, ইসলাম শুধু ইবাদত নয়—ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইমামরা শুধু নামাজ–রোজা শেখান না; সমাজ থেকে সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি ও নৈতিক অপরাধ দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক ইমাম বাধার মুখে পড়েন। সে কারণে ইমামদের ‘সৎসাহসিকতার পরিচয়’ দিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইসলামের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, সোনালি যুগে মসজিদ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে বিচারকাজ থেকে শুরু করে সামাজিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেওয়া হতো। বর্তমান সময়ে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তাই মসজিদকে শুধুমাত্র উপাসনালয় নয়—সমাজ ও রাষ্ট্র কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
ইমামদের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ভ্রান্ত মতবাদ ও বিভ্রান্তি দূর করা, জাতিকে সচেতন করা এবং রাসুল (সা.)–এর সম্মান রক্ষায় সোচ্চার থাকা ইমামদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু দেশের সাড়ে তিন লাখ মসজিদের অধিকাংশই বেসরকারিভাবে পরিচালিত হওয়ায় ইমাম–খতিবেরা প্রাপ্য সম্মান বা ন্যায্য অধিকার সবসময় পান না।
মাসুদ সাঈদী বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ইমাম–মুয়াজ্জিনদের জন্য রাষ্ট্রীয় সার্ভিস রুল প্রণয়ন, মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা হালনাগাদ এবং সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ বেলালী। বক্তব্য দেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের ইমামরা।