মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম এবার দলটির নায়েবে আমির হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সমাপনী অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৩ বছর কারাবাসের পর মুক্তি পাওয়া আজহারুল ইসলামের রাজনৈতিক পুনর্বাসন আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
দলের সূত্রে জানা গেছে, এটিএম আজহারুল ইসলামকে নায়েবে আমির ঘোষণা করা হলেও আপাতত দলটির নির্বাহী পরিষদ বা কর্মপরিষদের গঠনে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমান নির্বাহী পরিষদের সদস্য, অন্যান্য নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিভাগীয় সেক্রেটারিরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল থাকবেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দল পুনর্গঠনের ব্যাপক প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যোবায়ের জানান, এবারের শুরা অধিবেশনে কেবল শুরা সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় কাঠামোর অন্য অংশগুলোর পুনর্গঠন সম্পূর্ণরূপে নির্বাচন শেষে করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১৩ বছর কারাবন্দি থাকার পর এটিএম আজহারুল ইসলাম চলতি বছরের ২৮ মে মুক্তি পান। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরই জামায়াত তার মুক্তির দাবি সরবভাবে তোলে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২৭ মে তাকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেন। মুক্তির পরপরই তিনি দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পান।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এটিএম আজহারের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া জামায়াতের টপ লিডারশিপে বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছে। আগামী নির্বাচনে দল পুনর্গঠন ও নীতিগত অবস্থান নির্ধারণে তার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।