বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের সঙ্গে পূর্ণ পরামর্শের ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়েই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে একজন সন্তানের মতো তারেক রহমান মায়ের পাশে থাকতে চান। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “মায়ের প্রতি তাঁর টান স্বাভাবিক; কিন্তু তাঁর দেশে আসা একক সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে দলীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সঠিক সময় নির্ধারিত হবে।”
বিএনপির মহাসচিব খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, তিনি এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। মেডিকেল বোর্ড এখন পর্যন্ত বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অপরিবর্তিত’ বলেই জানান তিনি। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হাসপাতালের সামনে অযথা ভিড় করবেন না। এতে চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটছে।”
এদিকে শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেক রহমান লিখেছিলেন, “মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রবল হলেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত আমার একক নিয়ন্ত্রণে নেই।” তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুকূলে আসলেই তিনি দেশে ফিরবেন—এই আশা পরিবারের।
প্রসঙ্গত, গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফুসফুসে ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, কিডনি, লিভার ও আর্থ্রাইটিস—বহু জটিলতা থাকায় তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে চিকিৎসক দল।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং হাসপাতালকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।