বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি—রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে ঘিরে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। বিশেষ করে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা এবং তাকে লন্ডনে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন-সম্পর্কিত ভবিষ্যৎ অবস্থান, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আলোচিত ইস্যুতে সরকারবিরোধী অবস্থান নতুনভাবে তুলে ধরবেন বিএনপি নেতারা। এর পাশাপাশি দেশের ভেতরে ও বাইরে দলের ওপর চলমান চাপ, নজরদারি, এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া ধোঁয়াশা—এসব বিষয়ও সংবাদ সম্মেলনে স্থান পেতে পারে।
দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ঘিরে নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে চিকিৎসা আপডেট দেওয়া হলেও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছিল। সে কারণেই সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ববহ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে সাম্প্রতিক সঙ্কটময় সময়গুলোতে নিয়মিত ব্রিফিং করে আসছেন। রিজভীর বক্তব্যে নতুন কোনো কৌশল, কর্মসূচি বা রাজনৈতিক বার্তা আসতে পারে বলে আশা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা আসার পর থেকে নয়াপল্টনে বাড়তি নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় কর্মীরা বলছেন—এটি হতে পারে বিএনপির আগামী দিনগুলোর দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং।
দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই বিএনপির এই হঠাৎ জরুরি সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।