গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অব্যাহত নির্যাতন চালিয়ে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে ভারতীয় মদতপুষ্ট হাসিনা সরকার। শনিবার ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর জোড়াদহ বাজারে গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ মারাত্মক অসুস্থ। তাকে বারবার কারাগারে নেয়া হয়েছে, ন্যূনতম চিকিৎসার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় কাঁদছে, তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনার জন্য দোয়া তো দূরের কথা—তার পক্ষে কথা বলার মতো মানুষ এখন দেশেই খুঁজে পাওয়া যায় না।
রাশেদ খান আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক। তিনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের আন্দোলনের সামনের সারির নেতা।
ভারতের সহায়তায় পরিচালিত হাসিনা সরকার নানাভাবে তাকে দুর্বল করতে চেয়েছে, কিন্তু তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। অথচ আজ হাসিনা নিজেই পলাতক—তার নাম নেয়ার মতো লোক দেশে নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা নিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।
কিন্তু এর পরিবর্তে বিদেশিদের খুশি করতে বন্দর পরিচালনার মতো কৌশলগত খাত বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা চলছে। চাঁদাবাজির অজুহাতে বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দেয়া জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারের উপদেষ্টারা কমিশন বাণিজ্যে জড়িত কিনা—তা এখন বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন দিক থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, তারা তলে তলে নানা ধরণের অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, উপদেষ্টাদের দুর্নীতির তদন্ত হবে।
নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে উন্নয়নের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। ভবিষ্যতে যে দলই সরকার গঠন করুক, লুটপাট ও দুর্নীতির সুযোগ আর দেয়া হবে না।