রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবনতি ও জটিলতার মধ্যে তার প্রতি দেশব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে।
এ অবস্থায় শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আবেগপ্রবণ ভাষায় বলেন, “শেখ হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন বেগম খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন।” তিনি আরও বলেন, দেশ আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে অগ্রসর হচ্ছে, আর সেই পথচলা যেন খালেদা জিয়া নিজের চোখে দেখে যেতে পারেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নানা চিকিৎসা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “যদি কোনো ডাক্তার তাকে চিকিৎসা করতে যেতেন, তখন ওই ডাক্তারকেও ভয়ভীতি দেখানো হতো। এভাবেই তার শারীরিক অবস্থা আজকে এই পর্যায়ে এসেছে।” তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া আজ দেশজুড়ে গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, দলমত, মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন মানুষের জন্য লড়াই করেছেন। তাই রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে তার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং বিভিন্ন পুরনো রোগের জটিলতা নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা চলছে, তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।