জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নীতি ও রাজনৈতিক আদর্শবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের প্রচার সচিব ফাইয়াজ ইফতিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ পোস্টে ইফতি বলেন—যাদের কাছে ধর্ম অবমাননাকারী বাউলের সম্মান আল্লাহ তায়ালার চেয়ে বেশি, তাদের বয়কট করা উচিত।
ইফতি দাবি করেন, তার বহিষ্কার মূলত দলীয় সিদ্ধান্তে নয়; বরং বাউল আবুল সরকারের পক্ষে দলীয় অবস্থানকে সমর্থন না করার কারণে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি লেখেন, “আমি ফেসবুকে কী পোস্ট দেব—এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। ভালো কাজ করলে জামায়াত বা বিএনপিসহ যেকোনো দলের প্রশংসা করি, খারাপ করলে সমালোচনাও করি। এজন্য আমাকে ‘জামায়াত-শিবির’ ট্যাগ করার দরকার নেই।”
তিনি আরও লেখেন, “আমি নতুন একটি দলে যুক্ত ছিলাম। তারা আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে কটূক্তি করা ব্যক্তির পক্ষে যখন বিবৃতি দিল, তখন আমি তার প্রতিবাদ জানাই। আর এই প্রতিবাদই আমার অপরাধ। আগে কেনো আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি? কারণ তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখন পরিষ্কার।”
ইফতি অভিযোগ করেন, দলের ভেতরে ভিন্নমত সহ্য করা হয় না। এমনকি নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তার আইডি থেকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে আরও টার্গেট করা হয়। তিনি বলেন, “যদি এটিই অপরাধ হয়, তবে নাসির পাটোয়ারী যেভাবে তারেক রহমানকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে—সেটা নিয়ে কেনো প্রশ্ন ওঠে না?”
বহিষ্কারে নিজের কোনো দুঃখ নেই দাবি করে তিনি লিখেছেন, “আমার কাছে আল্লাহ তায়ালা ও প্রিয় নবীজির সম্মান সবার আগে। এই দলের পদ আমার প্রয়োজন নেই। বহিষ্কারের নোটিশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেছি।”
পোস্টের শেষাংশে ইফতি কঠোর ভাষায় বলেন, “যে দল আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে কটূক্তিকারীর পক্ষে বিবৃতি দেয়, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। যাদের কাছে আল্লাহর সম্মানের চেয়ে বাউলের সম্মান বেশি—তাদের বয়কট করুন।”
এ ঘটনার পর এনসিপির অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে ইফতির এই বিদায়ী বক্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে।