বিএনপি নেতা ও ঢাকা-৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির পরিকল্পনা দেশের সাধারণ মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে ইশরাক বলেন, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) ও জামায়াতে ইসলামী একই মনোভাবের অনুসারী। তাদের রাজনৈতিক আচরণ, ভোটের পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের মানসিকতা একই স্রোত থেকে এসেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ইশরাকের ভাষায়, “যে সব আসনে এই নব্য ফ্যাসিবাদরা মাথাচাড়া দেবে, তাদের ঘরে ঢুকিয়ে দিতে হবে। কয়েকদিনের মধ্যে জনগণ দেখবে—স্বৈরাচার আর রাজাকার একাকার হয়ে গেছে। পুলিশ দিয়ে ভোট ডাকাতির বাসনাও সেখান থেকেই এসেছে।”
এর আগে শনিবার চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের সমাবেশে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জামায়াতের জন্য এ সুযোগ ভবিষ্যতে আর নাও আসতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনকে নিজেদের ‘আন্ডারে’ এনে নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তার বক্তব্যে স্কুলশিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি পুলিশ প্রশাসনকেও জামায়াতের প্রার্থীকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়।
তার বক্তব্যে আরও বলা হয়, “ন্যাশনালি বলব না, তবে স্থানীয় প্রশাসন, মাস্টার, পুলিশ—সবাইকে আমাদের কথায় উঠতে-বসতে হবে। ওসি সাহেব সকালে আমাকে জেনে নেবেন আমার প্রোগ্রাম কী।”
বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বক্তব্যটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং দলের অবস্থান নয়। তারা অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
ইশরাক হোসেন মনে করেন, এই ধরনের বক্তব্যই প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত ক্ষমতার রাজনীতিতে একই ধারা অনুসরণ করছে। তার দাবি, জনগণ এখন এসব রাজনৈতিক আচরণ বুঝে গেছে এবং প্রশাসন ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির যে কোনো প্রচেষ্টা রুখে দিতে প্রস্তুত।