আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছে। শাপলা–কলি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের তৃতীয় তলায় সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
হলরুম ঘুরে দেখা যায়—তরুণ থেকে প্রবীণ, নারী থেকে পেশাজীবী—সব বয়স ও শ্রেণির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে সাক্ষাৎকার বোর্ডের সামনে জমজমাট পরিবেশ। প্রত্যাশীরা বোর্ডের সামনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, এনসিপির নীতি–আদর্শে বিশ্বাস, এবং জনগণের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। পাশাপাশি, এনসিপি বিরোধীদলে থাকলে কিভাবে দেশের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান, তাও ব্যাখ্যা করছেন।
৭০ বছর বয়সী ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম খান জানান, বয়স কোনো বাধা নয়। তরুণদের সঙ্গে তাল মিলিয়েই রাজনীতি করতে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমিও তরুণ। দেশকে সামনে নিতে হলে পুরনো নেতৃত্বের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। তাই এনসিপিকে বেছে নিয়েছি।”
ঝিনাইদহ-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রিয়া পারভীন বলেন, “মানুষ ৫৪ বছর একই ধরনের রাজনীতি দেখেছে। এখন পরিবর্তন চাই। নতুনদের সুযোগ দিলে সেই পরিবর্তনই আসবে। এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু—টাকা দিয়ে ভোট কেনার দিন শেষ।”
লালমনিরহাট-৩ আসনের ৩৫ বছর বয়সী প্রার্থী মোহাম্মদ মুকুল হোসেন বলেন, তরুণদের নেতৃত্বেই মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বিশ্বাস করেন, “বাংলাদেশের মানুষ এনসিপির নেতৃত্বকে সমর্থন করছে। তরুণরাই এই দলকে সামনে নিয়ে যাবে।”
এনসিপির মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন মোট ১,৪৮৪ জন, যার মধ্যে ৬০০ জনের সাক্ষাৎকার প্রথম দিন সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদের জন্য দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার চলছে।
দলের যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও মিডিয়া সেলের সদস্য খান মুহাম্মদ মুরসালীন বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক দর্শন, সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগ্যতা ও জনগণের সাথে সংযোগের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করবে।