সাবেক এনসিপি নেত্রী নীলা ইসরাফিল জামায়াতে ইসলামীকে একটি “শিরককারী, ধর্ম ব্যবসায়ী ও টেরোরিস্ট সংগঠন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জামায়াতের অতীত কর্মকাণ্ড, সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং তাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে ভুলভাবে “ধর্মভিত্তিক শান্তির কথা বলা রাজনৈতিক দল” হিসেবে দেখেছে। কিন্তু বাস্তবে দলটি ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি, বিভাজন এবং সহিংসতা ছড়ায়। নীলা বলেন, “হাসিনা যেমন স্বৈরাচার ছিল, ঠিক একইভাবে জামায়াতে ইসলামীও স্বৈরাচারী মানসিকতার দল।”
নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, একসময় তিনি মনে করতেন কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। কিন্তু পরে নানান ঘটনা বুঝতে পেরে উপলব্ধি করেছেন কেন শেখ হাসিনা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। তার ভাষায়, “আজকে পয়েন্ট টু পয়েন্ট বুঝতে পারছি যে কেন হাসিনা এদের নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। এদের রাজনীতি করলে দেশের মানুষই বিপদের মুখে পড়ে।”
নীলা ইসরাফিল বলেন, বাংলাদেশের শক্তি হলো ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এই ঐক্যের ভিত নষ্ট করতে চায় জামায়াত। তিনি বলেন, “যারা ধর্মকে ব্যবহার করে বিভক্তি তৈরি করতে চায়, তারা আর কিছু না হোক—মুনাফেক।”
তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দাবি করেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারীরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, “বাউল শিল্পীদের পিটিয়ে ফেলা হচ্ছে, নারীদের ওপেন মাঠে ধর্ষণ করা হচ্ছে। এটা কি কোনো সভ্য দেশের চিত্র?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে। বিশেষভাবে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ড. ইউনূস বসে বসে কি করেন? উনি কি এই জামায়াতকে লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছেন প্রতিটি জায়গায় মব সৃষ্টি করার?”
নীলা ইসরাফিলের ভিডিও বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।