তিনি বলেছেন, যদি প্রতিবেশী দেশের প্রতি ন্যূনতম সম্মান বজায় রাখতে হয়, তাহলে সবদিক থেকেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তার প্রশ্ন, যদি বাংলাদেশ দণ্ডিত কোনো ভারতীয় নাগরিককে আশ্রয় দিত এবং দিল্লির আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরও ফেরত না পাঠাত, তাহলে ভারত কী ধরনের অবস্থান নিত।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে দণ্ডিত যে কাওকে আইনি প্রক্রিয়ায় ভারতে পাঠানো বাধ্যতামূলক হতো। তাই নয়াদিল্লিরও উচিত শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।
‘ফ্র্যাকচার্ড অর্ডার্স, ফ্লুইড লয়্যালটিজ : পাওয়ার পলিটিক্স ইন দ্য পোস্ট-অ্যালাইনমেন্ট এজ’ শীর্ষক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনটি ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষ আলোচনা। এতে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার টেইলরস বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলিয়া রোকনিফার্ড, আগোরা স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের জোভান রাটকোভিচ, ব্রাজিলের গেটুলিও ভারগাস ফাউন্ডেশনের লিওনার্দো পাজ নেভেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মারিয়ান ভিডাউরি। আলোচনা পরিচালনা করেন জার্মানির আরটিএল নর্ড-এর ডেভিড প্যাট্রিশিয়ান।
এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রথম অনুরোধ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ভারত স্বীকার করেছে যে এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছে, তবে এখনো সেকথায় সাড়া দেয়নি।
সাম্প্রতিক রায়ের পর ঢাকা আবারও নয়াদিল্লিকে আহ্বান জানিয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অবিলম্বে হস্তান্তর করতে।
গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ গত বছরের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে দু’জনকেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।
রায়ের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের অন্য দেশে আশ্রয় দেওয়া গুরুতর ‘অমিত্রসুলভ’ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।