বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১০ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং এখন নির্বাচনের মুখে এসে তাদের সুর নরম হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, “ঐকমত্য কমিশন যে পিআরের কথা বলেছেন তা দেশের জনগণ বোঝে না। এতদিন পিআরের কথা বলে এখন আবার নির্বাচনমুখী হচ্ছে জামায়াত। তাদের অবস্থানের এ পরিবর্তন মানুষ ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা গেলে সবার অধিকার সুরক্ষিত হবে। ছাত্র ও জনতার আন্দোলনে যে পরিবর্তন এসেছে, তা জাতির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চান তারা।
জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, “জুলাই সনদে অনেক কিছু যোগ করা হয়েছে, যেটায় বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেনি। তবুও সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
ফখরুল বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য নয়। “ধর্ম মানুষকে ন্যায়, শান্তি ও সদাচরণের শিক্ষা দেয়। কিন্তু ধর্মকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া জাতির জন্য ক্ষতিকর,”—যোগ করেন তিনি।
সভায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন BNP মহাসচিব।
তিনি আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সমমনা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সমন্বিত কৌশলে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।