সশস্ত্র বাহিনী দিবসকে সামনে রেখে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। আগামীকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তারা যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জামায়াত আমির এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা সাধারণত দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কূটনীতিক, সেনাবাহিনীসহ তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকেন।
আন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ বছরের সংবর্ধনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক’ পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে জামায়াত নেতৃত্বের আমন্ত্রণ আলোচনার নতুন মাত্রা এনেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতৃত্বের আমন্ত্রণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে, চলমান রাজনৈতিক উত্তাপ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায় এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আমন্ত্রণ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
জামায়াত নেতারা মনে করছেন, সশস্ত্র বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের পর দলটির ‘মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন’-এর প্রক্রিয়াও আরও মজবুত হবে বলে তারা মনে করেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।