দেশের ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত শক্তি হেফাজতে ইসলাম আবারও জামায়াতে ইসলামীর মতাদর্শকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় উলামা কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ ও উলামা সম্মেলনে হেফাজতের আমীর মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “জামায়াতের ইসলাম আমাদের ইসলাম না। মওদুদীর ইসলাম আহলে সুন্নাতের ইসলাম হতে পারে না।”
মূল বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর চিন্তাধারা সাহাবাদের পথ থেকে বিচ্যুত এবং “নাস্তিকতার চেয়েও খাতরনাক”। তার ভাষায়, “জামায়াত যদি আগামী দিনে ক্ষমতায় আসে, তাহলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারবে না। তাদের মতাদর্শ ইসলামের প্রচলিত ধারার সাথে সাংঘর্ষিক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাওলানা মওদুদীর ব্যাখ্যা-ভিত্তিক ইসলাম মূলধারার ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যাখ্যা তৈরি করেছে, যা দেশে ধর্মীয় বিভাজন গভীর করেছে।
একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সময় ইসলামি রাজনীতির উত্থানের “সোনালী সুযোগ”। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসলামপন্থীদের ভূমিকা অস্বীকার করা আর সম্ভব হবে না।
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, রাজবাড়ীর নুরাল পাগলার মাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় আলেম-ইমামদের ওপর হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাজবাড়ীর প্রশাসন যদি দমন-পীড়ন বন্ধ না করে, জাতীয় পর্যায় থেকে কঠোর প্রতিবাদ হবে।”
ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনের দুই প্রভাবশালী নেতার এমন মন্তব্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, সমন্বয় এবং পারস্পরিক মতবিরোধ নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।