জুলাই আন্দোলনে নিহত মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “মাস্টারমাইন্ড পালিয়েছে, কিন্তু তার ‘কসাই’ আমাদের হাতেই। এই কসাই জিয়াউল আহসানের ফাঁসি কবে?”
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, স্বৈরাচার পতনের পর প্রকৃত বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি, কারণ যেসব ব্যক্তি সরাসরি গুম, নির্যাতন ও ফোন ট্যাপিংয়ের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিলেন, তাদের শাস্তি এখনো কার্যকর হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লেখেন, “১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনা যদি হন স্বৈরাচারের মস্তিষ্ক, তবে তার হাতুড়ি ছিল এই জিয়াউল আহসান। এনটিএমসি-তে বসে তিনি ঠিক করতেন কাকে গুম করা হবে, কার ফোনে আড়ি পাতা হবে। হাসিনার দেওয়া প্রতিটি সুপারি বা হত্যার নির্দেশ এই জিয়াউল আহসানই বাস্তবায়ন করেছে।
” তিনি দাবি করেন, জিয়াউল আহসানই ছিলেন গুম ও নজরদারির পূর্ণাঙ্গ অপারেশন পরিচালনার মূল ব্যক্তি, যার হাতে বহু পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনাদায়ক শোক সৃষ্টি হয়েছে।
মীর স্নিগ্ধ বলেন, আজ স্বৈরাচার পতন হয়েছে এবং শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হওয়ায় অনেকে স্বস্তি পেলেও বিচার এখানেই শেষ নয়। “এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আসল পরীক্ষা তখনই পাস হবে, যখন তারা জিয়াউল আহসানের মতো কুখ্যাত অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করবে,”—লেখেন তিনি। তার মতে, শুধু মূল পরিকল্পনাকারী নয়, বাস্তবায়নকারীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “হাসিনার দোসররা এখনো সক্রিয়। তাই সাপ মেরে লেজে বিষ রেখে লাভ নেই।” দেশের মানুষ কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, দোষীদের শাস্তি দেখতে চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিচার না হলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না এবং গুম–খুনের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হবে না।
মীর স্নিগ্ধর এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে গুম-নির্যাতন সংশ্লিষ্টদের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন।