জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্যালুট জানিয়ে ভাইরাল হওয়া রিকশা চালক সুজন এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মনোনয়নপত্র কিনছেন। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই মুহূর্ত থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে সুজন হয়ে ওঠেন সাহসী ও জনবান্ধব এক প্রতীক।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের উত্তপ্ত দিনগুলোতে রাজধানীর রাস্তায় যখন শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন, তখন রিকশা চালক সুজন হাত তুলে স্যালুট জানান আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি। সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়, আর সারা দেশে প্রশংসা কুড়ায়। অনেকেই তাকে ‘জনতার প্রতিনিধি’ হিসেবে দেখেন। এবার সেই সুজনই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করতে চলেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, সুজনের মতো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই তাদের রাজনৈতিক দর্শনের মূল শক্তি। গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এবং রাজনীতিকে অভিজাতকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে আনতেই এনসিপি নতুন প্রার্থীদের সুযোগ দিচ্ছে। সুজন মনোনয়ন পেলে তিনি হবেন সম্পূর্ণ তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক প্রতীকী প্রার্থী।
রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে সুজন বলেন, “আমি কোনো নেতা হতে চাই না। মানুষের হয়ে কথা বলতে চাই। ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছিল, সেটা ছিল দেশের ভবিষ্যতের জন্য। সেই সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোটা আমার দায়িত্ব মনে হয়েছিল। এখন জনগণ চাইলে আমি নির্বাচনে যাব।”
পেশায় রিকশাচালক হলেও মানুষের প্রতি তার ভালবাসা এবং আন্দোলনের পক্ষে সাহসী অবস্থান তাঁকে এনে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। অনেকেই মনে করছেন, সুজনের প্রার্থিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ধরনের বার্তা দেবে—যে দেশের ভবিষ্যৎ কেবল বড় দল বা প্রতিষ্ঠিত নেতাদের হাতেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ মানুষের হাতেও দায়িত্ব থাকা উচিত।
এনসিপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে সুজনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হলেও, এখন নজর থাকবে তিনি কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং জনগণ তাকে কতটা সমর্থন দেবে।