ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন—মনোনয়ন না পেলেও তিনি মাঠ ছাড়বেন না, কারণ জনগণ চাইলে তাকে নির্বাচন করতেই হবে। সম্প্রতি দেশের এক বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন। তার এই মন্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জাতীয় মহলেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি মনোনয়ন পাই নাই তাই বলে মাঠ ছাড়লে তো হবে না। মানুষ যদি চায়, নির্বাচন তো আমাকে করতেই হবে। এখন সেটা হাঁস মার্কায় করি আর শীষ মার্কায় করি, সেটা বড় বিষয় নয়। মানুষ কী বলছে, সেটা আমাকে প্রতি সেকেন্ডে শুনতে হয়।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট—দলীয় সিদ্ধান্ত যাই হোক, স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি মাঠে থাকবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সঙ্গে রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক যোগাযোগ নতুন নয়। তার পরিবারও এ আসনে রাজনৈতিক ইতিহাস বহন করে। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের কুমিল্লা-২ অংশ থেকে নির্বাচন করেছিলেন তার বাবা, ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের তাহের উদ্দিন ঠাকুর। সে নির্বাচনে নানা বিতর্ক থাকলেও অলি আহাদের প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৭ জন। এই আসনে বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও সক্রিয় তৎপরতা চলছে। ফলে আসনটি আগামী নির্বাচনকে ঘিরে আলোচিত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় জনতার প্রত্যাশা, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা—সব মিলিয়ে রুমিন ফারহানার মন্তব্য নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। মনোনয়ন না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—জনগণ ডাক দিলে তিনি পিছিয়ে যাবেন না।