গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, এখন থেকে গুন্ডামি–সন্ত্রাস কিংবা কেন্দ্র দখল করে কেউ আর জনপ্রতিনিধির পদে বসতে পারবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জনগণের ভোট ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার যে বেপরোয়া পথ দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে, সেটির অবসান হতে যাচ্ছে।
বুধবার বিকেলে পটুয়াখালীর দশমিনার গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গন্তব্য নির্ধারণ হবে। এটি এমন একটি নির্বাচন, যার মাধ্যমে ঠিক হবে দেশ গণতন্ত্রের দিকে এগোবে নাকি অতীতের দুঃশাসনে ফিরে যাবে। পাঁচ দশকের রাজনীতিতে ‘ধর–মার–খা’ সংস্কৃতির যে দৌরাত্ম্য ছিল, তার বিরুদ্ধে এবার জনগণই জবাব দেবে বলেও উল্লেখ করেন নুর।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। লুটপাটই তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। একটি মসজিদের জন্য তিন লাখ টাকা এলেও সেখানে দেড় লাখ টাকার বেশি পৌঁছাত না। দুই কোটি টাকার রাস্তা হলে কাজ হতো অর্ধেক বাজেটে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব দুর্নীতি ও অপশাসনই আজ দেশের রাজনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
পথসভার সঞ্চালনা করেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার সদস্য সচিব ইমরান হাওলাদার এবং সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আহ্বায়ক মফিজুর রহমান মাহফুজ। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, ভিপি নুর পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ আসনে এখনো বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেনি। রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা রয়েছে, জোট গঠিত হলে বিএনপি এ আসনটি নুরের জন্য ছেড়ে দিতে পারে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে।