মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুরে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি সমাবেশে তিনি বলেন, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দমন–পীড়নের পরও জামায়াত নেতাকর্মীরা সংযম, ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রেখেছে।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশে মুক্ত মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষায়, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশ ছিল ‘অপরাধের স্বর্গরাজ্য’, যেখানে ভিন্নমতের মানুষের ওপর নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা।
তিনি বলেন, “রাস্তায় গুলি করেই মন ভরেনি—আকাশ থেকেও গুলি চালিয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। আন্দোলনকারীদের ওপর এমন নৃশংস নির্যাতন দেখে জনগণ ঘরে বসে থাকতে পারেনি।”
তিনি দাবি করেন, বিপরীত পক্ষের দমন–পীড়নের মাঝেও জামায়াত নেতাকর্মীরা কারও ওপর ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেয়নি। “আওয়ামী লীগ দায়িত্বজ্ঞানহীন সংগঠন হলেও জামায়াত বিবেক দিয়ে দেশ পাহারা দিয়েছে,”—বলেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এ রায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়েছে। তার মতে, এই রায় স্বজনহারা পরিবারগুলোর মধ্যে সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রায় কার্যকর করুন—দেশবাসী পাশে থাকবে।”
সমাবেশে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন। নৈতিকতার ভিত্তিতে নতুন শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের কোনো সন্তানই বিপথগামী হোক—জামায়াত তা চায় না।
দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশ দুর্নীতিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। দেশের সম্পদ পাহারা দেবে জামায়াত।” পাশাপাশি তিনি নারীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখলেও কোনো বিদেশি প্রভুত্ব মানা হবে না বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।