সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনার কথা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন—এসব বাস্তব ঘটনার পরও দেশের বুদ্ধিজীবী মহল রহস্যজনকভাবে নীরব ছিলেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন মিলনায়তনে শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা অমানবিকভাবে গুম, খুন, নির্যাতন করেছেন। অথচ দেশের বুদ্ধিজীবীরা কেউই প্রতিবাদ করেননি। তারা দেশেই আছেন, তবুও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। দিল্লিতে বসে তিনি যেসব কথা বলছেন, সুযোগ পেলে এই বুদ্ধিজীবীরাই তার পক্ষ নিয়ে জনমত গঠন করতেন—কিন্তু এখন সেই পরিবেশ নেই।”
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন বদলালেই হবে না—মানসিকতার পরিবর্তন আগে জরুরি। তার মতে, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়ার সময় বুদ্ধিবৃত্তিক অনাচার ও পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয়েছে।
জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে কেউ কেউ অস্থিরতা তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ওদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। তারা চায় সময়মতো নির্বাচন না হোক—নির্বাচন যেন বাধাগ্রস্ত হয় বা বিলম্বিত হয়।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, সরকারকে অভিনন্দন জানাব। নির্বাচন যদি না-ও করতে পারে, তবুও ধন্যবাদ জানাব—কারণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।”
জামায়াত সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যে দলটি যমুনা ঘেরাও আন্দোলনে কঠোর অবস্থানে ছিল, দেখবেন কয়েকদিন পরই তারা গ্রামে-গঞ্জে ভোট চাইতে নেমেছেন। মনোজগতে অনেক দ্বন্দ্ব থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে দাঁড়াবেন।”
সেমিনারে তিনি আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেন—গুম-খুনের মতো ভয়াবহ অপরাধের বিচার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য দরকার সুস্থ রাজনৈতিক চিন্তা, নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সততা।