বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের মানুষ এখন ভোটের অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছে, কিন্তু জাতীয় ঐকমত্যের নামে নতুন অনৈক্য তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি আদেশ জারি করে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কারণ দেশের সর্বোচ্চ সার্বভৌমত্ব হলো জাতীয় সংসদ, আর জনগণই ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। জুলাই সনদ বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
দেশে আদেশ জারির কোনো ইতিহাস নেই এবং এ ধরনের আদেশের সাংবিধানিক ভিত্তিও নেই। তার মন্তব্য, সরকারের উদ্দেশ্য হলো একটি লিগ্যাল কেওয়াজ তৈরি করা, যার গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত সবাইকে জনগণের কাছে যেতে হবে। ১৫–১৬ বছর ধরে বিএনপি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করেছে। দেশের মানুষ এখন ভোট দিতে প্রস্তুত। এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গঠন করতে হবে, যেখানে কোনো ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান আর ঘটতে না পারে। তিনি বলেন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া গণতন্ত্র টেকে না, আর স্বৈরাচারের দোসরদের বহাল রেখে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের জাতি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা সে উদ্যোগেরই অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, গণহারে জিপিএ ফাইভ দিয়ে আসলে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি নষ্ট করা হয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে ধরনের আগ্রাসন চালানো হয়েছে, তাতে বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনকেও দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রক্তে-মাংসে বাংলাদেশি হয়েও চিন্তায় যেন ভারতীয়তা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনা যেভাবে গুম–খুনের রাজনীতি চালিয়েছেন, সে বিষয়ে সেই বুদ্ধিজীবীরা নীরব থেকেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, উপাচার্য, প্রোভিসি, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টরিয়াল টিমসহ শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাগলে বাংলাদেশ জাগে—এ ইতিহাস নতুন নয়। আশির দশকে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধেছিল। তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে প্রয়োজনভিত্তিক সিলেবাস তৈরি করা জরুরি। সবাইকে অকারণে মাস্টার্স ডিগ্রি নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দেশের মানসিক ও সামাজিক সংস্কার প্রয়োজন, না হলে সংবিধান বা আইনের সংস্কার করেও কোনো ফল মিলবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বেসিক স্ট্রাকচারের নামে খায়রুল হকের রায়ের পর বহু তরুণের জীবননাশ হয়েছে, অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাই প্রয়োজন সামগ্রিক সামাজিক সংস্কার।