নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, বিকৃত ভিডিও এবং এআই–নির্ভর ভুয়া কনটেন্ট নিয়ে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি বলেন—“পর্নোগ্রাফি থেকে শুরু করে হেন কোনো বাজে কাজ নেই যা আমার নামে ছড়ানো হচ্ছে না। সব দলের লোকেরা এটা প্রচার করছে। চায়ের দোকানে মোবাইলে দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমাকে টাকলু বলে হাসাহাসি করছে—কিন্তু এসব ভুয়া কনটেন্ট থামানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না।”
ফুয়াদ জানান, তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া ভিডিও বানানো হচ্ছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন—“এআই–এর সিভিয়ার প্রবলেম। ব্যবস্থা নেওয়ার কথা যত সহজে লেখা হয়, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক কঠিন। আপনারা যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারেন, আমরা কনফিডেন্স পাবো কীভাবে?”
এবি সাধারণ সম্পাদক আরও প্রশ্ন তোলেন—যদি গ্রামের প্রতিটি চায়ের দোকানে গিয়ে এসব ভুয়া ভিডিও বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন কীভাবে অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণ করবে? তিনি বলেন—“কত চায়ের দোকানে যাবেন? কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন? আমরা জানতে চাই—আপনার পরিকল্পনা কী?”
সংলাপে আইন ও আচরণবিধি সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি—ইসির কর্মপরিকল্পনায় বড় ধরনের অসংগতি আছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন—প্রার্থী নির্বাচনি ব্যয় বহন না করলেও অনুদান নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া এলাকাবাসীর জন্য একনেকে অনুমোদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ উদ্বোধনের সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না—এ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এটি প্রার্থীদের কার্যক্রম সীমিত করে দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ফুয়াদের এমন অভিযোগ ও ক্ষোভ সংলাপে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে—বিশেষ করে নির্বাচনের সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর অপপ্রচারের হুমকি নিয়ে।