জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় না দিয়ে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই আহ্বান জানান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি এই বিচারের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ কারোর নেই। বিচার স্বচ্ছ হয়েছে, নিরপেক্ষ হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে।”
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, “পলাতক মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিকে যারা আশ্রয় দিয়েছে, তারা ঘৃণ্য অপরাধীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। তাদের অবশ্যই বাংলাদেশে ফেরত দিতে হবে এবং আইনের কাছে সোপর্দ করতে হবে। সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের দাবি করলে, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চাইলে—এটাই তাদের প্রথম দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র বা সরকারের কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এই রায় তারই প্রমাণ। আমাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা, দলীয় সাক্ষী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়ের মাধ্যমে যেসব সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো দেশ–বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
শিবিরের প্রতিক্রিয়া
ইসলামী ছাত্রশিবির জানায়, শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের রায় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। স্বাধীন বিচারব্যবস্থায় এ রায়ে ভুক্তভোগীদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করে সংগঠনটি।
যৌথ বিবৃতিতে সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “ভারত সরকার যেন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক আসামিদের অবিলম্বে প্রত্যর্পণ করে। তা না হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দায়ভার ভারতকেই বহন করতে হবে।”
খেলাফত মজলিস
রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, “হাজারো শহীদের রক্তের প্রতি ন্যায়বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের সর্বোচ্চ শাস্তি কাম্য ছিল। রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে।”
ডাকসু নেতাদের প্রতিক্রিয়া
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর নেতারা। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, তিনি ইন্টারপোলসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে অবিলম্বে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবি করছেন। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল–মামুনেরও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, “এই রায়ে শহীদ পরিবারগুলো কিছুটা হলেও খুশি হয়েছে।”