জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশকে “বিশ্বের জন্য নজির” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই রায় শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
ওসমান হাদি বলেন, “পৃথিবীর কোনো ক্ষমতাই স্থায়ী নয়। কোনো শাসক জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে চিরকাল টিকে থাকতে পারে না। এই রায় প্রমাণ করেছে—যত শক্তিশালীই হোক, রাষ্ট্রীয় অপরাধের বিচার একদিন হবেই।” তার মতে, এই রায়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বুঝবে যে গণহত্যা, রক্তপাত ও দমননীতির কোনো বৈধতা নেই।
তিনি আরও বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তির পর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া সিদ্ধান্তও ন্যায়বিচারের অংশ। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে—মামুনের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সহযোগিতা করায় সাজার পরিমাণ কমানো হয়েছে।
হাদির দাবি, শহীদ পরিবারগুলো মনে করছে মামুনের সাজা আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল। অনেকের মতে, তাকে কমপক্ষে যাবজ্জীবন দেওয়া প্রয়োজন ছিল, কারণ একজন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রধান হিসেবে তার অপরাধ ছিল অত্যন্ত গুরুতর।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা করে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ দুই ঘণ্টা দশ মিনিট রায় পাঠ শেষে বিকেল ২টা ৫০ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করে।
ওসমান হাদির ভাষায়, “আজকের রায় শুধু বিচার নয়—এটি বিশ্বকে দেখিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপরাধ ঢাকতে পারে না।”