জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রায় ঘোষণার পরপরই নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন—“আজকের রায় শুধু শেখ হাসিনার কুকর্মের বিচার নয়, বরং বাংলাদেশের মাটিতে সকল স্বৈরশাসকের কবর রচিত হলো।”
সোমবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার অন্য দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও ট্রাইব্যুনাল পর্যালোচনা করে। এদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও কামাল পলাতক থাকলেও আইজিপি মামুন আদালতে গ্রেপ্তার হয়ে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে ‘লেথাল উইপন’ ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেড় হাজারের বেশি নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা এবং প্রায় ৩০ হাজারকে আহত করা হয়। পাঁচটি পৃথক অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পায়।
রায়কে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নতুন পথ খুলে দিয়েছে। যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে জনগণের রক্ত ঝরিয়েছে, তারা আজ ইতিহাসের কাঠগড়ায়।” তিনি মনে করেন, এটি শুধু একটি আদালতের সিদ্ধান্ত নয়—এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
ফখরুলের ভাষায়, “এই রায় স্বৈরাচারের পরাজয় এবং গণতন্ত্রের বিজয়ের প্রতীক।”