জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার চানখারপুরে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় এই রায় ঘোষণা করা হয় সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ২টা ৫০ মিনিটে।
ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কার্যক্রম–নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “আজ যে রায় ঘোষণা হয়েছে, এ রায় বাংলার জনগণ প্রত্যাখ্যান করে। এই রায় জনগণ মানে না, মানবেও না।”
তিনি আরও দাবি করেন, “অবৈধ আদালত” অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে মামলা নিষ্পত্তি করেছে। নানক বলেন, “১৪ আগস্ট মামলা শুরু করে ১৭ নভেম্বর রায় শেষ—এটা বিচার নয়, প্রতিশোধ। ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৫৪ জনকে হাজির করে ২০ দিনেই বিচার শেষ করা হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারক গত এক মাস অনুপস্থিত থাকলেও মামলার কার্যক্রম চলেছে, যা নিয়মবহির্ভূত। তার ভাষায়, “প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়ে মানুষের প্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়েছে।”
নানক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “অচিরেই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবো।” রায়ের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সকাল–সন্ধ্যা শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তিনি।
রায় ঘোষণার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বিক্ষোভ দেখা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাসদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।