ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদেক কায়েম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত দমন–পীড়ন চালিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
কিন্তু সব নিষেধাজ্ঞা–নির্যাতনের পরও ছাত্রশিবির মানুষের হৃদয়ে টিকে আছে, আর হাসিনা আজ দিল্লিতে পালিয়ে আছেন। তিনি বলেন, “ছাত্রশিবির দেশের মানুষের ন্যায়ের পক্ষে লড়ে যাবে, কখনো পিছপা হবে না।”
রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামি ছাত্রশিবির আয়োজিত ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিন হাজারেরও বেশি নবীন শিক্ষার্থীকে ফুল, কলম, বই এবং শুভেচ্ছা উপহার দিয়ে বরণ করে নেয় সংগঠনটি। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সাদেক কায়েম আওয়ামী লীগকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ উল্লেখ করে বলেন, “আজকের নবীনবরণ থেকে আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং তার ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। তার সহযোগী যারা ছাত্র নির্যাতন ও দমন-পীড়নে জড়িত ছিল, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়, তাদের প্রতিহত করুন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি ছিল এবং এখনও রয়েছে।”
রাবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী সময়ে এই ক্যাম্পাসে গণরুম ও গেস্টরুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। ইসলাম চর্চা করলেই ট্যাগিং ও হয়রানির শিকার হতে হতো।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন খান। সভাপতিত্ব করেন রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি, কলা অনুষদের ডিন বেলাল হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।