শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন,
“আপা আর ফিরবেন না, এই চ্যাপ্টার ক্লোজড।” সামনে জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, ভারতের দালাল প্রার্থীদের ভোট দেবেন না।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) যশোরে আয়োজিত জুলাই বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র প্রাচ্যসংঘ আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য আখতার ইকবাল টিয়া।
মাহমুদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দিল্লির সব ষড়যন্ত্র ও দাদাগিরি বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ভারত কখনোই চাইবে না বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। তিনি তরুণদের উদ্দেশ করে বলেন, দায়িত্ব এখন তাদের উপরও পড়েছে—প্রমাণ করতে হবে ভারতীয় দালালি করে কেউ আর ক্ষমতায় যেতে বা টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন,
“আমরা দল বুঝি না। যদি ভারতীয় দালালমুক্ত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারি তাহলে সেই প্রতিনিধিরাই প্রয়োজনে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেতৃত্ব দেবেন।”
বক্তৃতার শুরুতে তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ আনাসকে স্মরণ করেন। বলেন,
ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে যখন তরুণরা একের পর এক শহীদ হচ্ছিলেন, তখন আনাস মায়ের কাছে একটি চিঠি লিখে রেখে সেই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। চিঠিতে তিনি লিখে গিয়েছিলেন, আমার ভাইয়েরা রাস্তায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধে জীবন দিচ্ছে, আমি ঘরে থাকতে পারলাম না।
মাহমুদুর রহমান বলেন, আনাসদের মতো শিশুদের আত্মত্যাগ ভুললে চলবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যুদ্ধ করবেন না। তাদের স্বপ্নটা বোঝার চেষ্টা করুন। কীভাবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন তা ভাবুন।”
আগামী তিন মাস পর দেশে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেটি অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে। ঘোষণা দিতে হবে—নির্বাচনে কারচুপি করবে না, নির্বাচনে সহযোগিতা করবে এবং ফলাফল মেনে নেবে। একটি স্পষ্ট চার্টার দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন,
“চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে তরুণরা দেশকে শুধু ফ্যাসিবাদমুক্তই করেনি, একটি নতুন বন্দোবস্তের পথ তৈরি করেছে। সেই বন্দোবস্ত হচ্ছে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। এটি কেবল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, তরুণদের স্বপ্ন ও আবেগের সাথে বেঈমানি করা যাবে না—এ জাতি তা ক্ষমা করবে না।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ এবং লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট বেনজীন খান। আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই বিপ্লবের চার ছাত্র প্রতিনিধি সামিউল আজিম, সোহানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।