আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে লড়বেন জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত হওয়া খোকন চন্দ্র বর্মন। শুক্রবার রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে খোকনের মনোনয়ন ঘোষণা করে। ঘোষণায় বলা হয়—“শেরপুর-২-এর জন্য মনোনয়ন নিয়েছেন জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খোকন ভাই।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ওইদিন খোকন গুলিবিদ্ধ হন, এবং ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়—গুলিতে তার মুখমণ্ডল ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠোঁট, মাড়ি, নাক-মুখের বড় একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও আহত অবস্থায় তিনি অসীম শক্তি দেখান। রক্তাক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে নিজের মোবাইল ফোন আঙুলের ছাপ দিয়ে আনলক করে বড় ভাই খোকা চন্দ্র বর্মণকে খবর দেন। এই দৃশ্য সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়, এবং তিনি হয়ে ওঠেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকী মুখ।
খোকনের পরিবার সাধারণ শ্রমজীবী। বাবা কিনা চন্দ্র বর্মণ ঢাকার একটি হাসপাতালে সবজি–মাংস সরবরাহ করেন, মা রীনা রানী দাস গৃহকর্মীর কাজ করেন। ছোট ভাই শুভ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। খোকন নিজেও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। দুই ভাই একই কোম্পানিতে গাড়ি চালালেও থাকতেন আলাদা এলাকায়—খোকন যাত্রাবাড়ীতে, আর খোকা মহাখালীর সাততলা বস্তিতে।
বর্তমানে খোকন মস্কোতে দ্বিতীয় ধাপের ফেস রিকন্সট্রাকশন চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা আছে তার। এনসিপি বলছে, খোকনের আশা এবং সংগ্রামকে তারা রাজনৈতিকভাবে শক্তি দিতে চায়। তার প্রার্থিতা তাদের ‘জুলাই স্পিরিট’কে আরও শক্তিশালী করবে।
শেরপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি। এই তিন প্রার্থীকে কেন্দ্র করে এবার আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। খোকনের মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ায় মাঠের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।