বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়, কিন্তু তারা কখনোই ধর্মান্ধ বা সাম্প্রদায়িক নয়। তাই রাতারাতি জামায়াতে ইসলামীর ভোট ৫–৬ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে লাফিয়ে ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ সহজে আপনাদের ভোট দেবে না, কারণ তারা আপনাদের বিশ্বাস করে না।” শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এক গণসমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তান আন্দোলন করেছিলেন এ দেশের মুসলমানরা—মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু সে সময় জামায়াতের নেতা আবুল আহলা মওদুদী এ আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েই গণহত্যায় অংশ নেয় জামায়াতের বেশ কিছু অংশ। “আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ কথা বলতে দ্বিধা বোধ করি না,” মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আজকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা উল্টাপাল্টা কথা বলে আমাদের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে ভুল বোঝানো যাবে না।”
ফখরুলের দাবি, জনগণ ধর্মকে ভালোবাসে, আল্লাহর নবীকে ভালোবাসে—কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা, সহিংসতা ও দেশবিরোধী রাজনীতিকে সমর্থন করে না। তাই কোনো প্রকার অপপ্রচার বা আবেগী বক্তব্য দিয়ে জনগণের মতামত পাল্টানো সম্ভব নয়।
সমাবেশে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও বিএনপির করণীয় নিয়েও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পুনর্গঠনের জন্য বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে দলীয় নেতা–কর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশ এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।