বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত ১৭ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। দলের অভ্যন্তরীণ জটিলতা, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং নেতাকর্মীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন এবং দিনাজপুরের বিরল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. সাদেক আলীসহ একাধিক নেতার বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার পর প্রত্যাহার করা হয়েছে।
একইভাবে সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজা বেগম (সোনা), হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মহিবুল ইসলাম শাহিন, ভোলার তজুমদ্দিনের ৪নং চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য বাবর আলী বিশ্বাসকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা যুবদল আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, মিরসরাই উপজেলার সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য শহিদুল ইসলাম আজমসহ আরও কয়েকজন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন সুমন, বিএনপি সদস্য জামাল উদ্দিন গাজী এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলামও পুনরায় দলে ফিরেছেন।
এদিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবুল হোসেন মারুফ এবং সাধারণ সম্পাদক নকিব ফজলে রাকিব মাখনের পদ স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত। মাঠের রাজনীতিতে দলকে আরও চাঙ্গা রাখতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভাজন কমাতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারকে BNP কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।