ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং গণভোট আয়োজন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন চরম উত্তেজনায় রয়েছে। একদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আটটি দল পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজন এবং জুলাই সনদের নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে তীব্র অবস্থান নিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দেশের রাজনীতিতে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ঘটতে যাচ্ছে। সেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করবে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়, যা রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে।
অন্যদিকে পতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক রাজনৈতিক সূত্র। তবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি, জামায়াত ও তাদের সহযোগী দলগুলো।
বুধবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক উসকানিমূলক পোস্ট দেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পোস্টে তিনি লেখেন, “এই পিচ্চি আমার জন্য লাঠিটা নিয়া আইছে। আগামীকাল সকাল ৬টায় আমরা শাহবাগ থাকবো। লাঠি আর পতাকা নিয়া চইলা আইসেন। দল যার যার, লীগ পেটানোর দায়িত্ব সবার!”
পোস্টের সঙ্গে হাদি একটি ছবি যুক্ত করেন, যেখানে তাকে দেখা যায় এক শিশুর সঙ্গে। শিশুটি কাঁধে একটি কাঠের লাঠি ধরে আছে, আর হাদির হাতে রয়েছে ‘জুলাইয়ের গ্রাফিতি ও গাইল সমগ্র’ নামের একটি বই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্ট্যাটাস সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আরও উত্তেজনা ছড়াতে পারে। প্রশাসন ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।