ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে প্রথম গ্রেপ্তারের পর নিজের নির্মম নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “আমার হাঁটুতে তারা এমনভাবে মারছিল যে, পরের প্রায় দুই সপ্তাহ হাঁটু গেড়ে সিজদা দিতে পারিনি। এই নির্মম নির্যাতনের মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে গিয়েছি।”
সম্প্রতি নিজের নির্বাচনী এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি অতীতের আন্দোলন, কারাবাস ও নির্যাতনের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, “আমরা জানি, এই সংগ্রাম সহজ নয়। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।”
আখতার হোসেন জানান, ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পরই তাকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, “মোদিকে দাওয়াত দিয়ে আনা হলো, জনগণ প্রতিবাদে রাস্তায় নামল, অনেকে শহীদও হলেন। তখন আমাকে শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। চোখ বেঁধে হাত পেছনে বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে অজানা স্থানে নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “সেখানে আমার হাত ওপরে বেঁধে চোখ বাঁধা অবস্থায় শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। হাঁটুতে লাথি, লাঠির আঘাত—এতো মারছে যে দুই সপ্তাহ ধরে সিজদা দিতে পারিনি। তবু আমি ধৈর্য ধরেছিলাম, কারণ আমি জানতাম, সত্যের পথে লড়লে আল্লাহ সাহায্য করেন।”
এনসিপি সদস্য সচিব আরও জানান, ২০২২ সালেও তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সেখানেও একই রকম নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা ভয় পাইনি, কারণ জনগণের অধিকারের জন্য এই লড়াই চলছে, চলবেই।”